বাংলা ভাষায় এমনিতেই ঝোক বিশিষ্ট শব্দ কম।ইংরেজি বাক্যের মত তার এত ঘাত-প্রতিঘাত নেই-যা শুনামাত্র পাঠকের মনে বিক্ষেপ সৃষ্টি করতে পারে।তাই ছন্দ ও সুরকে আশ্রয় করে প্রাচীন-মধ্য ও রবীন্দ্রযুগ পর্যন্ত কবিগণ পুষিয়ে নিলেন ভাষায় ঘাত-প্রতিঘাতের এই অভাব।কিন্তু তিরিশের দশক থেকে যখন গদ্যছন্দ প্রাধাণ্য বিস্তার করলো,তখন কবিতার ভাষা হয়ে ওঠলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মসৃণ ও সমতল।তাই চিত্রকল্প ও উপমার সার্থক প্রয়োগে তারা কবিতাকে করে তুলতে চাইলেন রূপ-কল্পনায় দৃষ্টিগ্রাহ্য ও চিত্তাকর্ষক।জীবনানন্দ এক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল।কবিতায় বিচিত্র তরঙ্গের পরিবর্তে প্রাধাণ্য পেল একই ধরনের তরঙ্গের টানা বিস্তার,শব্দের পরতে পরতে সৃষ্টি হল ঘোর ও রহস্যের।


পক্ষান্তরে কেউ কেউ ছন্দ-সুরের প্রাথমিক ধারণা না রেখেই-চিত্রকল্প উপমার খাপছাড়া বল্গাহরিণ চালিয়ে,সামঞ্জস্যহীন শব্দসমবায়ের নির্বোধ কুন্ডলী পাঁকানোয় ব্যাপৃত হলেন।পাঠকের বোধে বেশিরভাগ সময়েই যা নাড়া দিতে ব্যর্থ হল।কেউ কেউ বাজিমাত করার জন্য,নিজের চমতকারিত্ব প্রকাশের জন্য নিলেন নান্দনিক কৃত্রিমতার আশ্রয়।কঠিন কঠিন শব্দের সংযোগহীন ব্যবহারে কবিতাকে করে তোললেন বাগজাল সর্বস্ব।ফলে অভিযোগ ওঠলো দুর্বোধ্যতার,কবিতাও হারালো তার কাঙ্ক্ষিত পাঠকপ্রিয়তা।তবে এসবের ভেতর দিয়েই কেউ কেউ এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের গন্তব্যের দিকে,যাদের হাত ধরেই প্রত্যাশিত মোড় নেবে সাম্প্রতিক কবিতা ও তার পরিমণ্ডল।